Menu

হার্ট ফেইলিওর এর কারণ , লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

হার্ট ফেইলিওর এর অন্যতম লক্ষণ গুলো হল শ্বাসকষ্ট বা shortness of breath, বুক ধড়পড় করা, হাপিয়ে উঠা। এই উপসর্গ গুলো কয়েকটি স্তরে হয়ে থাকে যেমন, প্রথমত অনেক পরিশ্রম করলে, দ্বিতীয়ত মাঝারি ধরনের পরিশ্রম যার মধ্যে রয়েছে সিঁড়ি ভাঙ্গা, দৌড়ানো ইত্যাদি, তৃতীয়ত স্বল্প পরিশ্রমের কাজ করলে যেমন হাটা, চতুর্থত কোন ধরনের পরিশ্রম ছাড়াই যাকে অন্য ভাবে বলা যায় বিশ্রাম অবস্থায়ই শ্বাসকষ্ট হওয়া, বুক ধড়পড় করা। অনেকের ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায় যে খাবার গ্রহণের পরে অস্থির লাগে, দম বন্ধ হয়ে আসে সেই সাথে অনেক ক্লান্ত লাগে। এগুলো সবই হার্ট ফেইলিওর এর উপসর্গ হতে পারে। হার্ট ফেইলিওর এর আরও একটি লক্ষণ আছে যা প্রায়ই দেখা যায় সেটি হচ্ছে মধ্যরাতে বা শেষ রাতে কাশি হওয়া। এই লক্ষণটিকে আমরা অনেক সময় সাধারণ কোন কাশি মনে করে এড়িয়ে যাই যা মোটেই উচিৎ নয়। এই সব রোগীদের ক্ষেত্রে ঘুমতে যাওয়ার আগে বা রাতের প্রথম অর্ধে কোন রকম কাশি বা কাশির আলামত থাকে না কিন্তু হঠাৎ মধ্যরাতে বা শেষ রাতে প্রচণ্ড কাশি শুরু হয় ঘুম ভেঙ্গে রোগী জানালার পাশে তথা মুক্ত বাতাসে যেতে চান এটি হতে পারে হার্ট ফেইলিওর এর লক্ষণ, সে কারণে মধ্যরাত বা শেষ রাতের কাসির ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। আরও একটি বিষয় জানা প্রয়োজন যে মূলত দুর্বল হার্টেই সাধারণত হার্ট ফেইলিওর হয়ে থাকে।

হার্ট ফেইলিওর এর কারণঃ-

হার্ট ফেইলিওর এর অনেক কারণ রয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হল করনারি আর্টারি ডিজিজ বা হার্টের রক্তনালীতে ব্লক হওয়া। হার্টের রক্তনালীতে ব্লক হলে অবশ্যই সেই ব্লক অপসারণ করতে হবে। Angioplasty stenting অথবা coronary artery bypass surgery-র মাধ্যমে হার্টের রক্তনালীর ব্লক এর চিকিৎসা করা যায়। জন্মগত হৃদ রোগ থেকে থাকলে তা যদি চিকিৎসা করা না হয় তবে সেটিও হার্ট ফেইলিওর এর কারণ হতে পারে। নানাবিধ কারণে অনেক সময় হার্ট স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়ে যায় এর ফলে, হৃদ স্পন্দন স্বাভাবিক ভাবে হয়না যা এক পর্যায়ে, রোগীকে হার্ট ফেইলিওর এর দিকে নিয়ে যায়। এগুলো ছাড়াও Valve এর সমস্যা, হার্টের Damaged area, Viral infection হার্ট ফেইলিওর এর কারণ হতে পারে। কোন কারণে হার্ট দুর্বল থাকলে pregnant মহিলাদের হার্ট ফেইলিওর হতে পারে কেননা সেই সময় হৃদ যন্ত্রকে অনেক বেশি রক্ত সঞ্চালন করতে হয়। যদি কারো কোন কারণে হার্ট ফেইলিওর হয় তবে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে কারণ এ অবস্থায় প্রথম কয়েক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের মধ্যে হার্টের পর্দা ফেটে যাওয়া সহ আরও জটিল সমস্যা হতে পারে।

হার্ট ফেইলিওর হতে দূরে থাকার উপায়ঃ-

হার্ট ফেইলিওর হতে দূরে থাকতে হলে জীবন যাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। প্রথমত, খেয়াল রাখতে হবে ওজনের প্রতি। অতিরিক্ত ওজন হার্ট ফেইলিওর ছাড়াও আরও অন্যান্য রোগের অন্যতম কারণ। সেকারনে ওজন যাতে অতিরিক্ত না হয় এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জাতীয় খাবার গ্রহণ হতে বিরত থাকতে হবে তথা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ডায়াবেটিস যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে; যদি ডায়াবেটিস হয়েও যায় সে ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কোন অবস্থাতেই ধূমপান করা যাবেনা। উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিয়মিত ৩০-৪০ মিনিত হাটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। হৃদরোগের রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি পান করা উচিৎ নয়, দিনে ১.৫০-২ লিটার পানিই যথেষ্ট এবং অতিরিক্ত লবন গ্রহণ করা হতে বিরত থাকতে হবে। রাতের খাবার সন্ধ্যা রাতে গ্রহণ করা সবার জন্যই উত্তম। সংক্ষেপে বলাযায়, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাটা, ধূমপান পরিহার, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ হার্ট ফেইলিওর সহ আরও অন্যান্য রোগ হতে নিরাপদে থাকার অন্যতম উপায়।

চিকিৎসাঃ-

হার্ট ফেইলিওর এর চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে ঔষধ সেবন এবং সার্জারি। প্রথমে হার্ট ফেইলিওর এর কারণ খুজে বের করতে হবে। যদি হৃদ যন্তের রক্তনালীতে ব্লক থাকে তবে ওপেন হার্ট বাইপাস সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা করতে হবে। যদি Valve –এ সমস্যা থাকে, সে ক্ষেত্রে Valve Repair বা Replace করতে হবে। হার্টের কোন অংশ Damage হলে SVR procedure এর মাধ্যমে Damaged অংশ কেটে ছোট করে দেওয়া বা Dor Procedure or Modified Dor Procedure এর মাধ্যমে হার্ট এর Damaged অংশ কেটে বাদ দিয়ে চিকিৎসা করা যায়। জন্মগত ত্রুটি থাকলে সার্জারি করে ত্রুটি ঠিক করতে হবে। হৃদযন্ত্র অনেক দুর্বল হয়ে গেলে Left Ventricular Assist Device (LVAT) যাকে বলা যায় “Mechanical Pump ” – এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়, যাতে দুর্বল হার্ট সঠিক মাত্রায় রক্ত সঞ্চালন করতে পারে। এ ছাড়া Heart Transplant এর মাধ্যমেও দুর্বল হার্ট এর চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। হৃদ স্পন্দন স্বাভাবিক এর থেকে অনেক কম হলে Biventricular Pacemaker দিয়ে দুর্বল হৃদযন্ত্রের হৃদ স্পন্দন স্বাভাবিক করা হয়। এই সকল চিকিৎসার সাথে রোগিকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে এবং একই সাথে চিকিৎসার দীর্ঘ মেয়াদী ফল পেতে হলে জীবন যাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে যেমন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাটা, ধূমপান পরিহার করা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

Schedule a Consultation

This is required.
The name has to be less than 30 characters long.
Your email must be between 10 and 100 characters long and look like an e-mail address.
This is required.
The name has to be less than 20 characters long.
This is required.
The name has to be less than 100 characters long.

Make sure to give correct information

Chamber

Visiting Hours

Saturday - Thursday 7.00 PM - 10.00 PM
Friday Closed
Developed By - Bot Valley